দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ১৩টি জবাইকৃত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় সরবরাহ করে আসছিল। বুধবার সকালে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করলে চক্রের সদস্যরা জবাইকৃত ঘোড়াগুলো ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পেছনের ঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ১৩টি ঘোড়ার নিথর দেহ পাওয়া যায় এবং একটি জীবন্ত ঘোড়াও উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা অনুমান করেন, চক্রটি উদ্ধারকৃত ঘোড়ার মাংস অন্তত ৩০ মণ বাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল মিয়াজী জানিয়েছেন, গত ছয় মাস ধরে ঘরে রহস্যময় কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। অপরাধীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ‘তিতাস’ ও ‘রাজিব’ নামের দুই সদস্যকে শনাক্ত করেছেন। অন্য প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন বলেন, চক্রটি প্রতি রোববার ও বুধবার গভীর রাতে ঘোড়া জবাই করে মাংস বস্তায় ভরে গরুর মাংস হিসেবে বাজারে সরবরাহ করত এবং চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি পুঁতে প্রমাণ মুছে ফেলত।
গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী জানিয়েছেন, সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে, তবে অপরাধীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ অনুযায়ী ঘোড়া জবাই করা বেআইনি। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
জবাইকৃত ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে। জীবন্ত ঘোড়াটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে রাখা হবে। স্থানীয়রা এই অসাধু চক্রের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
এমএস/